এক কথায় লুক
পুঁতির চেইনে ঝলমলে একটি খোলা তারা: পুঁতির তারা লকেট নেকলেস ডিজাইনটা সহজ রেখেছে, ধাতুর রংটাই আসল আকর্ষণ। স্টাইল দুটি, সিলভার-টোন বিড আর গোল্ড-টোন ব্ল্যাক স্টোন।
তারা গয়নার সবচেয়ে হাসিখুশি আকারগুলোর একটি। দেখতে প্রাণবন্ত, একটু খেলাচ্ছলে, আর সব বয়সেই মানায়। এই নেকলেসে তারাটা বসেছে সুন্দর সাজে: সরু বোনা চেইন, দুই পাশে এক সারি পুঁতি, আর আলো ধরা কিনারা-পুঁতিওয়ালা খোলা লকেট।
আপনার স্টাইল বেছে নিন
- সিলভার-টোন বিড। ঠান্ডা আর উজ্জ্বল। পুঁতিগুলো মসৃণ, আয়নার মতো চকচকে গোল, তারা আর চেইনের ফিনিশ একই রুপালি। দেখতে পরিপাটি, আধুনিক, প্রায় সবকিছুর সাথেই মেলে।
- গোল্ড-টোন ব্ল্যাক স্টোন। উষ্ণ আর জমকালো। এই গোল্ড-টোন স্টাইলের গ্যালারি ছবিতে পুঁতিগুলো কাটা-কাটা, গায়ে হাতুড়ি-পেটানো ভাব, আর তারাটা গোল্ড-টোন। ছবিতে কোনো কালো পাথর দেখা যায় না, তাই অর্ডারের আগে বেছে নেওয়া স্টাইলের ছবিগুলো ভালো করে দেখে নিন।
দুই স্টাইলের ডিজাইন একই, তাই বাছাই আসলে নির্ভর করে আপনি কোন ধাতুর রং পরতে ভালোবাসেন তার ওপর। বেশির ভাগ গয়না সিলভার-টোন হলে প্রথমটা নিন। উষ্ণ রং পছন্দ হলে দ্বিতীয়টা।
ডিজাইনের খুঁটিনাটি
চেইন
ওপরে স্প্রিং-রিং ক্ল্যাস্প থেকে সরু বোনা চেইন বেঁকে নেমে এসেছে পুঁতির দিকে। বুননটা দড়ির মতো নরম, গলায় সহজে নড়ে। চেইন সরু বলে নজর থাকে লকেটের ওপর, আর দুই প্রান্তের ছোট ক্যাপ ক্ল্যাস্পটাকে গুছিয়ে শেষ করেছে।
পুঁতি
চেইনের দুই পাশে এক সারি করে গোল পুঁতি লকেটের দিকে নেমে এসে হালকা একটা V আকার তৈরি করেছে, যার মুখ তারার দিকে। সিলভার-টোন স্টাইলে পুঁতি মসৃণ আর আয়নার মতো। গোল্ড-টোন স্টাইলে পুঁতি কাটা-কাটা, তাই আলো এক ঝলকে না থেকে নরম নরম ঝিলিক দেয়।
তারা লকেট
লকেটটা পুঁতির কিনারা দেওয়া একটি খোলা তারা। তারার গায়ে ছোট ছোট গোল চাকতির নকশা, তাই দেখতে প্রাণবন্ত আর টেক্সচারওয়ালা, আর মাঝখান খোলা থাকায় ওজনে হালকা। পুঁতির ঠিক নিচে একটা ছোট রিং থেকে এটি ঝুলে থাকে।
আপনার ওয়ার্ডরোবে কোথায় মানায়
- বিয়ে ও রিসেপশন। শাড়ি, লেহেঙ্গা বা গাউনের সাথে খেলাচ্ছলে একটা ছোঁয়া দেয়, পোশাকের সাথে পাল্লা দেয় না।
- পার্টি ও সন্ধ্যার আয়োজন। সাধারণ ড্রেসের গলায় একটা উজ্জ্বল তারাই সাজটা জমিয়ে দেয়।
- ঈদ ও উৎসবের দিন। সাদা, ক্রিম বা হালকা রঙের পোশাকে হাসিখুশি একটা অ্যাকসেন্ট।
- সাধারণ দিন। সিম্পল টি-শার্ট বা সাধারণ কুর্তির ওপর পরলে সাজে আলাদা একটা ব্যক্তিত্ব আসে।
- গিফট। জন্মদিন বা যেকোনো উদযাপনের জন্য সহজে ভালো লাগার মতো ডিজাইন।
তিনভাবে স্টাইল করুন
ক্লাসিক। ছোট স্টাড কানের দুলের সাথে একা পরুন। তারাই হোক একমাত্র আকর্ষণ, বাকি সবকিছু সিম্পল রাখুন।
মনোক্রোম। পুরো কালো পোশাকে নেকলেসটা যেন ভেতর থেকে জ্বলজ্বল করে। পুরো সাদা পোশাকে তারাটা হয়ে ওঠে গ্রাফিক অ্যাকসেন্ট।
উৎসবের সাজ। ম্যাচিং কানের দুল আর জমকালো রঙের শাড়ির সাথে পরুন। সিম্পল পুঁতি এমব্রয়ডারির পাশে বেমানান লাগে না।
নিয়ম হিসেবে, ওপরে আরেকটা লম্বা নেকলেস পরবেন না। তারার চারপাশে একটু জায়গা থাকলেই সেটা সবচেয়ে সুন্দর দেখায়।
রঙের সাথে মেলানো
সিলভার-টোন স্টাইল নীল, নেভি, ধূসর, সাদা, কালো আর হালকা গোলাপির সাথে ভালো যায়। পোশাকে এনে দেয় ঠান্ডা, ঝকঝকে ভাব। গোল্ড-টোন স্টাইল সবচেয়ে সুন্দর লাগে গাঢ় লাল, সবুজ, বেগুনি আর নীলের সাথে, ক্রিম ও আইভরির সাথেও। হালকা পেস্টেল রঙে এটি এনে দেয় উষ্ণতা।
নেকলেসের নিজের কোনো কড়া রং নেই, তাই প্রিন্টের কাপড়ের সাথে ঝগড়া করে না। প্রিন্টের শাড়ি বা কুর্তি পরলে এমন সিম্পল একটা তারা প্রিন্টটাকেই মূল আকর্ষণ থাকতে দেয়।
খুঁটিনাটি আরেকটু কাছ থেকে
নেকলেসটা তুলে ধরলে কয়েকটা জিনিস চোখে পড়বে। প্রথমত পুঁতি: দুই পাশে সুন্দর করে পরপর সাজানো, তাই নেকলেসের একটা পরিষ্কার আকার আছে, সাধারণ সুতোর মালার মতো লাগে না। দ্বিতীয়ত তারা: কিনারার পুঁতি আউটলাইনকে পূর্ণ রূপ দেয়, আর ভেতরের চাকতির নকশা টেক্সচার যোগ করে। তৃতীয়ত চেইন: বোনা গড়ন নরম ও নমনীয়, গলার বাঁক ধরে থাকে।
সব মিলিয়ে দূর থেকে দেখতে ভালো, কাছে এলে আরও ভালো। চরিত্রে হালকা, পরা সহজ, সারাদিন পরার মতো।
উপহার হিসেবে
তারার নেকলেস হাসিখুশি একটা উপহার। যাদের জন্য মানায়:
- তারা আর খেলাচ্ছলে গয়না যে বন্ধু বা কাজিন ভালোবাসে
- জন্মদিন বা বিশেষ কোনো মাইলফলকে বোন বা মেয়ে
- বিয়েতে স্মারক হিসেবে ব্রাইডমেইড বা অতিথি
- বিদায় বা উদযাপনে সহকর্মী বা মেন্টর
- আপনি নিজে, যেদিন একটু ঝলমলে থাকতে ইচ্ছে করে
ছোট বক্স বা নরম পাউচে হাতে লেখা একটা চিঠি দিয়ে দিলেই উপহার তৈরি। কোন ধাতুর রং তাঁর পছন্দ বুঝতে না পারলে, তিনি সবচেয়ে বেশি কোন গয়না পরেন সেটা ভেবে নিন।
অর্ডারের আগে জেনে নিন
- স্টাইল অনুযায়ী ফিনিশ সিলভার-টোন বা গোল্ড-টোন। এটি নিরেট সোনা বা রুপা নয়।
- নেকলেস স্প্রিং-রিং ক্ল্যাস্পে আটকায়।
- তারা লকেটের মাঝখান খোলা।
- ভিন্ন স্ক্রিনে রং একটু আলাদা দেখাতে পারে।
- বেছে নেওয়া স্টাইলের পণ্যের ছবিগুলো দেখে নিন।
যত্ন ও রাখার নিয়ম
- নেকলেস পারফিউম, লোশন, হেয়ারস্প্রে আর পানি থেকে দূরে রাখুন। সাজের একদম শেষে পরুন, আর সবার আগে খুলুন।
- পরার পর চেইন আর লকেট নরম শুকনো কাপড়ে মুছে নিন, ত্বকের তেল আর ধুলো উঠে যাবে।
- পাউচ বা বক্সে আটকে রাখুন, যাতে চেইন জট না পাকায় আর লকেটে দাগ না পড়ে।
- পরে ঘুমানো, সাঁতার কাটা, গোসল বা ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলুন।
- চেইন শক্ত করে টানবেন না, লকেটেও টান দেবেন না, আর স্প্রিং-রিং ক্ল্যাস্প আস্তে আটকান।
সাধারণ প্রশ্ন
কোন কোন স্টাইল পাওয়া যায়?
সিলভার-টোন বিড আর গোল্ড-টোন ব্ল্যাক স্টোন। কার্টে যোগ করার বাটনের ওপর থেকে আপনার স্টাইল বেছে নিন।
এটা কি নিরেট সোনা বা রুপা?
না। এর ফিনিশ গোল্ড-টোন বা সিলভার-টোন, অর্থাৎ ধাতুর রঙের পৃষ্ঠ।
সিম্পল পোশাকের সাথে মানাবে?
হ্যাঁ। সিম্পল পোশাকই সবচেয়ে ভালো পটভূমি, তখন তারাটাই হয়ে ওঠে একমাত্র আকর্ষণ।
অন্য নেকলেসের সাথে পরা যাবে?
একা পরলেই সবচেয়ে ভালো লাগে, তারার চারপাশে জায়গা রেখে।
কীভাবে আটকাব?
স্প্রিং-রিং ক্ল্যাস্প আস্তে ধরুন, আর বের হওয়ার আগে দেখে নিন ঠিকমতো আটকেছে কি না।
শেষ কথা
পুঁতির তারা লকেট নেকলেস হালকা মেজাজের একটা গয়না, ফিনিশও পরিপাটি। বোনা চেইন, এক সারি পুঁতি আর কিনারায় পুঁতিওয়ালা খোলা তারা মিলিয়ে নেকলেসটা পরা সহজ, মেলানোও সহজ। আপনার ওয়ার্ডরোবের সাথে যে ধাতুর রং মানায় সেটা বেছে নিন, শুকনো রাখুন, ঠিকমতো তুলে রাখুন, আর সাধারণ একটা দিনেও একটু ঝলমলে থাকুন।