এক নজরে
নিজের শেকড়ের কথা বললে গয়না আরও আপন হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ ম্যাপ লকেট নেকলেস সেই কাজটাই করে সুন্দর ও পরিষ্কারভাবে। দেশের রূপরেখার আদলে ছোট একটি সোনালি লকেট ঝুলছে সরু চেইনে, আর তার ঠিক ওপরে ছোট একটি হার্ট চার্ম। কেউ জিজ্ঞেস করলে আলাদা করে বোঝাতে হয় না, আকারটাই সব বলে দেয়।
নেকলেসটি স্টেইনলেস স্টিলের, সোনালি রঙের ফিনিশে। এটি চিকন আর দেখতে হালকা, তাই রোজ পরা যায়, আবার জাতীয় দিবস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জমায়েতেও মানায়। ছবিতে এটি ডিসপ্লে কার্ডের ওপর রাখা, কার্ডে লেখা Stainless steel, তাই পুরো চেইন আর লকেট একসাথে দেখতে পাবেন।
ছবিতে যে ডিজাইন ডিটেইল দেখা যায়
- ম্যাপ আকারের লকেট। লকেটটি বাংলাদেশের রূপরেখা ধরে তৈরি, উপকূল আর সীমানার আঁকাবাঁকাসহ। সাইজ ছোট, তাই গলার গোড়ায় ঠিকঠাক বসে, বড় বড় লাগে না।
- খোদাই করা বিভাগ। মানচিত্রের গায়ে বিভাগগুলোর সরু খোদাই রেখা, আর প্রতিটির নামও লেখা, যেমন Rangpur, Dhaka ও Chattogram। এই ছোট ডিটেইলগুলো লকেটে গভীরতা আনে, কাছে থেকে সত্যিই মানচিত্রটা পড়া যায়।
- মানচিত্রের ওপরে ছোট হার্ট। চেইনে লকেটের ঠিক ওপরে গোল ছোট একটি হার্ট চার্ম। দেশের প্রতি ভালোবাসা বোঝানোর শান্ত একটা উপায় এটি, সাথে একটু নরম, মেয়েলি ছোঁয়াও আনে।
- সরু লিংক চেইন। চেইনটি পাতলা সোনালি রঙের লিংক চেইন, হালকা ও নমনীয়। ছবিতে এটি ডিসপ্লে কার্ডে দুই ভাঁজে রাখা, বিক্রির সময় যেভাবে সাজানো থাকে।
- সোনালি রঙের ফিনিশ। লকেট, হার্ট আর চেইন একই উষ্ণ রঙের, তাই পুরো নেকলেসকে একটাই পিস মনে হয়।
- ডিসপ্লে কার্ড। সাদা কার্ডে Stainless steel লেখা অবস্থায় নেকলেসটি দেখানো, গিফট দেওয়ার জন্য তৈরি।
কার জন্য
- প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য। বাড়ির ছোট একটা স্মৃতি, যা অফিসে, কমিউনিটির অনুষ্ঠানে আর জাতীয় দিবসে পরা যায়।
- জাতীয় দিবসের উদযাপনে। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ভাষা আন্দোলনের দিন বা পহেলা বৈশাখে লাল-সবুজ বা ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সাথে পরুন।
- গিফটে। বোন, বিদেশে চলে যাওয়া বন্ধু, নতুন গ্র্যাজুয়েট বা বেড়াতে আসা আত্মীয়ের জন্য অর্থবহ উপহার।
- রোজকার পরায়। যাঁরা সাধারণ লুকের অর্থবহ লকেট ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য।
কীভাবে পরবেন
এই সাইজের লকেট কলারের নিচে বা সাদামাটা নেকলাইনের ওপর আরামে বসে। কিছু আইডিয়া দেওয়া হলো।
- হিজাব বা স্কার্ফের সাথে। নরম স্কার্ফের ওপর পরলে প্যাস্টেল ও নিউট্রাল রঙের মাঝে সোনালি রংটা সুন্দর ফুটে ওঠে।
- কুর্তি বা কামিজের সাথে। গোল বা বোট নেকলাইনের সাথে পরুন, যাতে লকেট দেখা যায়, এমব্রয়ডারিতে ঢেকে না যায়।
- সাদা টপ বা টি-শার্টের সাথে। এখানেই সবচেয়ে সুন্দর লাগে: সাদামাটা জমিনে মানচিত্রের আকার আর খোদাই করা নামগুলো পরিষ্কার দেখা যায়।
- একা পরলে। লকেটের নিজেরই যথেষ্ট অর্থ আর ডিটেইল আছে, পাশে আর নেকলেস লাগে না। লেয়ারিং করতে চাইলে লকেটছাড়া খুব চিকন একটা চেইন বেছে নিন।
বিশেষ দিনের জন্য পেয়ারিং আইডিয়া
জাতীয় দিবসে অনেকেই পতাকার রঙে সাজতে ভালোবাসেন। লাল বা সবুজ কামিজ, শাড়ি কিংবা স্কার্ফের সাথে সোনালি লকেটটা আলাদা হয়ে ফোটে, আর নেকলেসটাই হয়ে ওঠে সেই একমাত্র অ্যাকসেসরিজ, যা পোশাককে দিনটার সাথে বেঁধে দেয়। পহেলা বৈশাখে লাল পাড়ের সাদা শাড়ির সাথে এটি দারুণ মানায়। প্রবাসে কমিউনিটির অনুষ্ঠানে সাধারণ কালো বা ক্রিম রঙের টপই যথেষ্ট, কারণ ম্যাপের আকারই সব বুঝিয়ে দেয়।
নেকলেসটি শান্ত মুহূর্তেও মানায়: বিদেশের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিন, বিমানবন্দরে বিদায়, কিংবা বাংলাদেশ থেকে দূরে বড় হওয়া কোনো শিশুকে উপহার। লকেট ছোট আর গোছানো, তাই এটা কস্টিউম জুয়েলারির মতো লাগে না, উৎসবে যেমন, অফিসেও তেমনই আরামে পরা যায়।
ফিট ও আরাম: সাধারণ পরামর্শ
চেইনের দৈর্ঘ্যই ঠিক করে লকেট কোথায় বসবে: ছোট চেইনে লকেট থাকে কলারবোনের কাছে, লম্বা চেইনে নেমে যায় বুকের দিকে। এই পেজের পণ্যের বিবরণে চেইনের দৈর্ঘ্য ও এক্সটেনশনের তথ্য দেখে নিন, আর ভেবে নিন কোন নেকলাইন আপনি বেশি পরেন। স্কার্ফ বা উঁচু কলারে ছোট চেইন সহজে চোখে পড়ে, খোলা নেকলাইনে যেকোনো দৈর্ঘ্যই চলে।
লকেট ছোট আর চেইন চিকন, তাই গলায় নেকলেসটা হালকা লাগে। ত্বক সংবেদনশীল হলে রাতে খুলে রাখুন এবং পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন, কারণ যেকোনো ধাতুর নিচে ঘাম বা আর্দ্রতা জমলে ত্বকে জ্বালা করতে পারে।
যত্ন আর সুন্দর রাখার উপায়
সোনালি ফিনিশ উজ্জ্বল রাখতে নেকলেস শুকনো রাখুন, শাওয়ার, পুল বা সমুদ্রে পরবেন না। আগে পারফিউম, বডি লোশন ও হেয়ার স্প্রে লাগিয়ে নিন, নেকলেস পরুন সবার শেষে। পরার পর নরম শুকনো কাপড়ে মুছে নিন, বিশেষ করে লকেটের খোদাই করা রেখাগুলোতে, যেখানে তেল আর ধুলো জমে। অন্য চেইন থেকে আলাদা করে পাউচে বা কার্ডের ওপর রাখুন, যাতে সরু লিংকগুলো জট না পাকায়। খোলার সময় চেইন টানাটানি করবেন না, বরং ক্ল্যাস্প খুলে নিন।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
লকেটটা দেখতে কেমন? বাংলাদেশের মানচিত্রের আকারের, ওপরে ছোট একটি হার্ট চার্ম।
কী দিয়ে তৈরি? সোনালি রঙের ফিনিশে স্টেইনলেস স্টিল।
গায়ের কাজ সাদামাটা, নাকি ডিটেইল আছে? মানচিত্র সমতল ও মসৃণ নয়, বিভাগের রেখা ও নাম খোদাই করা।
গিফট দেওয়া যাবে? জি, যাবে। ডিসপ্লে কার্ডে আসে, আর এর অর্থটা বেশিরভাগ বাংলাদেশিই এক নজরে বুঝে যান।
ছেলেরাও কি পরতে পারবেন? ডিজাইনটি হালকা ও নিউট্রাল, জাতীয় অর্থের লকেট চান এমন যে কারও কাছে এটি জনপ্রিয় পছন্দ। পছন্দমতো ফিটের জন্য চেইনের দৈর্ঘ্য দেখে নিন।
সাইজ কোথায় পাব? এই পেজের পণ্যের বিবরণে।
শেষ কথা
বাংলাদেশ ম্যাপ লকেট নেকলেস সহজ একটা গয়না, কিন্তু বার্তাটা পরিষ্কার। পরা সহজ, স্টাইল করা সহজ, গিফট দেওয়াও সহজ। চেইনের দৈর্ঘ্য দেখে নিন, লকেট দেখা যায় এমন পোশাক বেছে নিন, আর যেখানেই থাকুন, সাথে রাখুন বাড়ির একটুকরো।