এক নজরে
কিছু ঘড়ি নজর কাড়ার জন্যই বানানো, মেয়েদের স্কয়ার ক্রিস্টাল-লিঙ্ক ব্রেসলেট ঘড়ি তার একটি। ছোট চারকোনা কেসের ওপরে ফ্যাসেটেড গ্লাস, তাই আলোতে ডায়াল ঝলমল করে। কেস জোড়া লাগানো U-আকৃতির সোনালি রঙের লিঙ্কের ব্রেসলেটে, যাতে আছে ছোট গোল বিডস। কেসের পাশের লিঙ্কগুলো রুপালি রঙের, সারি সারি ছোট স্বচ্ছ ক্রিস্টাল-লুক পাথর বসানো, হাত নাড়ালেই ঝিকমিক করে। ফল, ঘড়িটা দেখতে সুন্দর গয়নার মতো।
এই পেজে ডায়ালের রং চারটি: নেভি ব্লু, পার্পল, প্লাম আর সাদা। গ্রুপ ছবিতে গোলাপি, হলুদ আর সবুজের মতো অন্য শেডও আছে, তবে এখানে বেছে নেওয়ার মতো রং ওপরের এই চারটিই। মুভমেন্ট কোয়ার্টজ, ব্যাটারিতে কাঁটা চলে, দম দিতে হয় না।
যে মেয়েরা অ্যাকসেসরিজে একটু নাটকীয়তা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য ছোট্ট ঝিলমিল এই ঘড়ি।
ছবিতে যে ডিজাইন ডিটেইলস দেখা যায়
- ফ্যাসেটেড গ্লাসের চারকোনা কেস। ডায়ালের ওপরের কাচ নরম ফ্যাসেটে কাটা, কিছুটা রত্নের মতো। ছবিতে দেখা যায় কাচের ওপর আলো ভেঙে ছড়াচ্ছে, তাতে ডায়ালের রং আরও গাঢ় আর প্রাণবন্ত লাগে।
- ক্রিস্টাল-লুক পাথর। কেসের পাশের রুপালি লিঙ্কে সারি করে বসানো স্বচ্ছ, ঝিলমিল পাথর। সমান দূরত্বে ছোট ছোট, ঘড়ি ভারী না করেই ঝকঝক যোগ করে।
- চেইন-স্টাইল ব্রেসলেট। স্ট্র্যাপ U-আকৃতির সোনালি লিঙ্কে বানানো, প্রান্তে ছোট গোল বিডস, কেসের পাশে পাথর বসানো অংশ। লিঙ্কগুলো কবজির চারপাশে স্বাধীনভাবে বেঁকে ঝোলে।
- নেভি ব্লু, পার্পল ও প্লাম ডায়াল। মুখগুলো গাঢ় ও চকচকে, সরু সোনালি কাঁটা, ছোট সোনালি রোমান সংখ্যা আর ছোট পাথরের মতো মার্কার। ফ্যাসেটেড কাচের নিচে রং আরও গভীর দেখায়।
- সাদা ডায়াল। পরিষ্কার, মুক্তার মতো সাদা মুখ, সোনালি রোমান সংখ্যা আর পাতলা সোনালি কাঁটা। এটাই সবচেয়ে ফর্মাল আর সময় পড়া সবচেয়ে সহজ।
- সোনালি রঙের ফিনিশ। রুপালি রঙের পাথর বসানো লিঙ্ক বাদে কেস আর বেশির ভাগ লিঙ্ক একই উজ্জ্বল সোনালি রঙের।
ডায়ালের রং বেছে নিন
নেভি ব্লু গাঢ় আর মার্জিত। প্রায় সবকিছুর সাথে চলে, আর ঝিলমিল ঘড়ি চাইলে অথচ অফিসের জন্যও যথেষ্ট সিরিয়াস, তাহলে ভালো পছন্দ।
পার্পল স্টেটমেন্ট রং। ফ্যাসেটেড কাচ এর ঝিলিক ফুটিয়ে তোলে, আর পার্পল, লাইলাক, ক্রিম ও সাদা পোশাকের সাথে বিশেষভাবে সুন্দর লাগে।
প্লাম পার্পলের চেয়ে উষ্ণ আর বেশি নাটকীয়, ওয়াইনের মতো গভীরতা নিয়ে। কালো, বারগান্ডি, অলিভ আর মাটি রঙের সাথে চমৎকার।
সাদা সবচেয়ে পরিষ্কার, সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী অপশন। রোমান সংখ্যায় সময় পড়া সহজ, আর ফর্মাল পোশাক এবং রুপালি বা সোনালি গয়নার সাথে সমান ভালো যায়।
দুটি ছবিতে কয়েকটি ঘড়ি সারি করে রাখা, তাই মুখের রং পাশাপাশি মিলিয়ে দেখতে পারবেন।
মূলত সন্ধ্যায় পরবেন ভাবলে পার্পল আর প্লাম মুখে আলো সবচেয়ে ভালো ধরে, কারণ ফ্যাসেটেড কাচ তাদের গাঢ় রং নিয়ে খেলে। সোমবার অফিসে আর শুক্রবার বিয়েতে, দুই জায়গায় পরার মতো ঘড়ি চাইলে নেভি ব্লু আর সাদা সবচেয়ে নিরাপদ। চারটিতেই ব্রেসলেট একই, তাই বাছাই শুধু মুখের রং নিয়ে, আরাম বা ফিট নিয়ে নয়।
কীভাবে পরবেন
- বিয়ে ও পার্টিতে। ক্রিস্টাল-লুক লিঙ্কে আলো পড়ে, ব্রেসলেটের কাজও করে। শুধু ঘড়ি আর সাদাসিধে কানের দুল পরুন, ঘড়িটাকে ঝলমল করতে দিন।
- অফিসে। নেভি ব্লু ও সাদা ডায়াল লুক পরিপাটি ও সিরিয়াস রাখে, আর লিঙ্ক হালকা ঝিলিক যোগ করে।
- সাদাসিধে পোশাকের সাথে। সাদামাটা কালো ড্রেস, সাধারণ কুর্তি বা সাদা শার্ট ঝিলমিল কবজির কারণে আরও আকর্ষণীয় হয়।
- গিফটের জন্য। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী আর উৎসবে সুন্দর উপহার, কারণ রংগুলো দিয়ে যিনি পাবেন তাঁর পছন্দের সাথে মেলানো যায়।
ফিট, সাইজ ও আরাম
ব্রেসলেট চেইন-স্টাইলের ও নমনীয়, তাই কবজির বাঁক মেনে চলে। কবজির মাপ ভিন্ন হয়, তাই অর্ডারের আগে এই পেজের প্রোডাক্ট ডিটেইলসে স্ট্র্যাপের দৈর্ঘ্য আর কেসের সাইজ দেখে নিন। কবজি চিকন হলে সবচেয়ে ছোট সেটিং আপনার মাপের সাথে মিলিয়ে দেখুন। কবজি বড় হলে সর্বোচ্চ স্ট্র্যাপ দৈর্ঘ্য দেখে নিন।
পাথর বসানো অংশ একটু টেক্সচার যোগ করে, তাই ক্ল্যাপ কবজির ভেতরের দিকে আরামে বসছে কি না দেখুন। সাবধানে আটকান, আর হাঁটার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন লক হয়েছে। দৈর্ঘ্য বদলাতে হলে ঘড়ি মেরামতের দোকান সাধারণত লিঙ্ক জুড়ে বা খুলে দিতে পারে।
পাথরগুলো ছোট আর সারি করে বসানো, তাই উল আর লেসের মতো খসখসে কাপড় থেকে ঘড়ি দূরে রাখলে ভালো, কারণ এগুলো সেটিংয়ে আটকাতে পারে। নাজুক এমব্রয়ডারির লম্বা হাতার পোশাক পরলে হাতা ঘড়ির ওপর দিয়ে ধীরে টানুন, যাতে সুতো লিঙ্কে আটকে না যায়।
যত্ন নিন, নতুনের মতো রাখুন
ঝিলমিল পাথর আর পালিশ করা লিঙ্ক পরিষ্কার ও শুকনো থাকলে সবচেয়ে সুন্দর দেখায়। প্রতিবার পরার পর নরম শুকনো কাপড়ে মুছুন, আর পাথরের চারপাশের ধুলা সরাতে খুব নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন। পারফিউম, হেয়ার স্প্রে, লোশন আর পরিষ্কারের তরল থেকে দূরে রাখুন, এগুলো পাথর আর ফিনিশের জৌলুস কমিয়ে দিতে পারে। পানির তথ্য জানতে এই পেজের প্রোডাক্ট ডিটেইলস দেখুন, আর গোসল, সাঁতার ও থালাবাসন ধোয়ার সময় ঘড়ি খুলে রাখুন।
ঘড়ি পাউচ বা লাইনিং দেওয়া বক্সে সমতলভাবে রাখুন, অন্য গয়না থেকে দূরে, যা কাচে আঁচড় কাটতে বা পাথরে আটকাতে পারে। শক্ত জায়গায় কেস ঠুকে ফেলবেন না। সেকেন্ডের কাঁটা থেমে গেলে ঘড়ির দোকানে ব্যাটারি বদলে নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
কোন কোন ডায়ালের রং পাওয়া যায়? নেভি ব্লু, পার্পল, প্লাম আর সাদা।
ঝিলমিল পাথরগুলো কী? ব্রেসলেটের কিছু অংশে বসানো ছোট ক্রিস্টাল-লুক পাথর।
এটা কি কোয়ার্টজ ঘড়ি? জি। ব্যাটারিতে চলে, দম দিতে হয় না।
কাচের কি বিশেষ কাট আছে? কাচ ফ্যাসেটেড, তাই আলোতে ডায়াল ঝলমল করে।
স্ট্র্যাপের দৈর্ঘ্য কি বদলানো যায়? ঘড়ি মেরামতের দোকান সাধারণত ব্রেসলেটের লিঙ্ক ঠিক করে দিতে পারে। আগে প্রোডাক্ট ডিটেইলসে স্ট্র্যাপের দৈর্ঘ্য দেখে নিন।
প্রতিদিন পরার জন্য কি চলবে? জি, ওপরের যত্নের পরামর্শ মেনে। উৎসব-অনুষ্ঠানের জন্যও যথেষ্ট সাজানো।
শেষ কথা
মেয়েদের স্কয়ার ক্রিস্টাল-লিঙ্ক ব্রেসলেট ঘড়ি ছোট, ঝিলমিল আর বেশ নজরকাড়া। ফ্যাসেটেড চারকোনা কেস, বিডসওয়ালা সোনালি রঙের লিঙ্ক, ক্রিস্টাল-লুক পাথর বসানো লিঙ্ক আর নেভি ব্লু, পার্পল, প্লাম বা সাদা ডায়ালের পছন্দ, মেজাজ মিলিয়ে ভার্সন বেছে নিতে পারবেন। ছবিগুলো দেখুন আর অর্ডারের আগে এই পেজের ডিটেইলস দেখে নিন।