এক নজরে
যে ঘড়ি একই সাথে বালাও, এই ধারণাটা বেশ সুন্দর, আর FF রেক্ট্যাঙ্গুলার টুইস্টেড বালা ঘড়ি সেটা গুছিয়ে করে দেখিয়েছে। বাকল দেওয়া স্ট্র্যাপের বদলে এতে আছে শক্ত একটি ব্যান্ড, যা ক্লাসিক বালার মতো কব্জি ঘিরে বাঁকানো। ব্যান্ডের গা প্যাঁচানো, প্রায় মোটা দড়ির মতো, ফলে ধাতুতে সমৃদ্ধ টেক্সচার আসে আর পুরো দৈর্ঘ্যে আলো ধরে। ওপরে বসানো ছোট আয়তাকার ডায়াল, ঘিরে আছে স্লিম কেস, কব্জি ঘোরালেই সময় দেখাতে তৈরি।
চেনা গোল ঘড়ি থেকে এটিকে আলাদা করেছে ডায়ালের আকার। আয়তক্ষেত্র একটু বেশি মার্জিত, একটু বেশি ভিনটেজ, আর যাঁরা সরল রেখা পছন্দ করেন তাঁদের মানায়। প্যাঁচানো ব্যান্ডের সাথে মিলে এটি কম্প্যাক্ট একটি অ্যাকসেসরি, যা ভেবেচিন্তে বানানো ও পরিপাটি দেখায়।
ছবিতে যে ডিজাইন ডিটেইল দেখা যায়
ছবি ভালো করে দেখলে এই বৈশিষ্ট্যগুলো চোখে পড়ে:
- আয়তাকার ডায়াল। ডায়ালটি ছোট, দাঁড়ানো আয়তক্ষেত্র, কোণগুলো কাটা, একটু তির্যক, আর কাচের কিনারা ফেসেটেড। কেসের কিনারা পাতলা, তাই মুখ হালকা ও সূক্ষ্ম লাগে।
- প্যাঁচানো বালার ব্যান্ড। ব্যান্ডের ওপরের অংশে চলেছে সর্পিল, দড়ির মতো প্যাটার্ন, নিচের দিক আরও চ্যাপ্টা ও মসৃণ। এটি শক্ত বালার আকার, নমনীয় চেইন নয়।
- চিকন কাঁটা ও ছোট মার্কার। কাঁটা চিকন আর মার্কারগুলো ছোট বার, তাই ডায়াল শান্ত ও পড়তে সহজ।
- ডায়ালে FF চিহ্ন। মুখের ওপরের দিকে ছোট FF লোগো, ব্র্যান্ডিং তাই চোখে লাগে না।
- মেটাল টোন। বেশিরভাগ ভার্সন গোল্ড-টোন, একটি সিলভার-টোন, তাই আগে থেকে যে গয়না আছে তার সাথে মিলিয়ে নিতে পারবেন।
আপনার রং বেছে নিন
পাঁচটি ভার্সন আছে, আর প্রতিটি একই শেপকে আলাদা মেজাজ দেয়।
- গোল্ড ক্রিম। সোনালী কেসে ফ্যাকাশে ক্রিম ডায়াল। সবচেয়ে ক্লাসিক ভার্সন, প্রায় সব পোশাকের সাথেই যায়।
- সিলভার পিঙ্ক। নরম গোলাপি ডায়ালসহ সিলভার-টোন বালা। কোমল ও মেয়েলি, সিলভার আংটি আর পার্ল-লুক কানের দুলের সাথে ভালো মানায়।
- গোল্ড লাইট গ্রিন। ফ্রেশ, হালকা সবুজ মুখ, উষ্ণ সোনালী ব্যান্ডের পাশে উজ্জ্বল দেখায়।
- গোল্ড পার্পল। গাঢ় বেগুনি ডায়াল ঘড়িকে দেয় আরও সাহসী, সন্ধ্যার সাজে মানানসই লুক।
- গোল্ড ডার্ক গ্রিন। গাঢ়, অলিভ-ঘেঁষা সবুজ, জমকালো আর একটু ভিনটেজ।
রোজ পরার জন্য একটি ঘড়ি চাইলে গোল্ড ক্রিম সবচেয়ে নিরাপদ। নিরপেক্ষ রংয়ের অনেক পিস আগে থেকেই থাকলে আর সামান্য রং চাইলে সবুজ বা বেগুনি ডায়ালই ভালো শুরু। গ্রুপ ছবিতে একটি সাদা ডায়ালের ভার্সনও আছে, যা এই পাঁচটি অপশনের মধ্যে নেই, তাই এই পেজের অপশন থেকেই বেছে নিন।
কীভাবে পরবেন
বালা-স্টাইলের ঘড়ি স্টাইল করা সহজ, কারণ এটি আগে থেকেই গয়নার মতো।
- একা ও সিম্পল। সাদামাটা টপ, সালোয়ার কামিজ বা ক্যাজুয়াল ড্রেসের সাথে একাই পরুন। প্যাঁচানো ব্যান্ডই দেয় প্রয়োজনীয় সব ডিটেইল।
- সাদামাটা বালার সাথে। পাশে এক-দুটি মসৃণ, চিকন বালা যোগ করুন। মেটাল টোন মিলিয়ে নিলে স্ট্যাক পরিপাটি থাকে।
- অফিসে। ক্রিম ও হালকা সবুজ ভার্সন শার্টের কাফ বা হালকা কুর্তির হাতার পাশে প্রফেশনাল লাগে।
- পার্টিতে। বেগুনি ও গাঢ় সবুজ ডায়াল শাড়ি বা সন্ধ্যার পোশাকের সাথে মার্জিত লাগে, কব্জিতে আর বেশি কিছু লাগে না।
- গিফট হিসেবে। বালার আকার সাধারণ লেডিস ঘড়ির চেয়ে একটু আলাদা, তাই এটি ভেবেচিন্তে দেওয়া উপহার হয়ে ওঠে।
ফিট, সাইজ ও আরাম
শক্ত বালা স্ট্র্যাপের মতো চলে না। এটি নিজের আকার ধরে রাখে এবং বাকলে অ্যাডজাস্ট না হয়ে কব্জি ঘিরে থাকে। ছবিতে এটি হাতে ধরা এবং হাতার পাশে পরা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। ভেতরের সঠিক মাপ আর বালা কীভাবে পরতে হয় জানতে এই পেজের প্রোডাক্ট ডিটেইলের সাইজ তথ্য দেখে নিন এবং নিজের কব্জি ও হাতের সবচেয়ে চওড়া অংশের মাপের সাথে মিলিয়ে নিন।
বালা টাইট করে পরতে অভ্যস্ত হলে জোর না খাটিয়ে গলে যায় এমন সাইজ নিন। ঢিলে পছন্দ হলে একটু বাড়তি জায়গা রাখুন, তবে মনে রাখবেন, বেশি ঢিলে বালা-ঘড়ি ঘুরে গিয়ে ডায়াল কব্জির নিচের দিকে চলে যেতে পারে।
যত্ন ও সুন্দর রাখার উপায়
গোল্ড-টোন ও সিলভার-টোন ফিনিশ আলতো যত্নে বেশি সুন্দর থাকে। যেকোনো ফ্যাশন ঘড়ির জন্য এই সাধারণ ভালো অভ্যাসগুলো কাজে লাগে:
- শুকনো রাখুন, আর গোসল, সাঁতার বা বাসন ধোয়ার আগে খুলে ফেলুন।
- পারফিউম, লোশন ও হেয়ার প্রোডাক্ট আগে লাগিয়ে শুকিয়ে নিন, তারপর ঘড়ি পরুন।
- পরার পর নরম শুকনো কাপড়ে ডায়ালের কাচ আর প্যাঁচানো ব্যান্ড মুছে নিন।
- প্যাঁচানো প্যাটার্নে ধুলো জমতে পারে, তাই খাঁজ থেকে ধুলো তুলতে নরম শুকনো ব্রাশ কাজে দেয়।
- আলাদা করে রাখুন, যাতে অন্য বালায় আঁচড় না লাগে বা অন্য বালা এতে আঁচড় না কাটে।
- ফিট করাতে বালা চেপে বা বাঁকাবেন না, কারণ তাতে এর আকার বদলে যেতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
এতে কি বাকল আছে? না। ছবিতে বাকলওয়ালা স্ট্র্যাপের বদলে বালা-স্টাইলের ব্যান্ড দেখা যায়।
কোন কোন রং পাওয়া যায়? গোল্ড ক্রিম, সিলভার পিঙ্ক, গোল্ড লাইট গ্রিন, গোল্ড পার্পল ও গোল্ড ডার্ক গ্রিন।
ডায়াল কি গোল? না, এটি ছোট আয়তক্ষেত্র, আর সেটাই এই ঘড়িকে আলাদা লুক দিয়েছে।
অন্য বালার সাথে পরা যাবে? হ্যাঁ। একই মেটাল টোনের চিকন, মসৃণ বালা বেছে নিলে স্ট্যাক ভারসাম্যপূর্ণ দেখাবে।
সাইজ কোথায় দেখব? অর্ডারের আগে এই পেজের প্রোডাক্ট ডিটেইল পড়ুন, আর নিজের কব্জির মাপ নিন।
শেষ কথা
FF রেক্ট্যাঙ্গুলার টুইস্টেড বালা ঘড়ি তাঁদের জন্য, যাঁরা এমন ঘড়ি চান যা গয়নার মতো আচরণ করে। আয়তাকার ডায়াল পরিপাটি, প্যাঁচানো বালার ব্যান্ড টেক্সচারে সমৃদ্ধ, আর ক্রিম, গোলাপি, সবুজ ও বেগুনি মুখের বাছাইয়ে নিজের রুচি মেলানো যায়। চিরকালীন পছন্দ চাইলে গোল্ড ক্রিম নিন, আর কব্জিতে একটু বেশি ব্যক্তিত্ব চাইলে রঙিন ডায়াল।