এক নজরে
চিকন ব্রেসলেট একটার ওপর একটা পরা অনেকেরই পছন্দের স্টাইল, কিন্তু সাজাতে সময় লাগে। এই সেমি-রাউন্ড থ্রি-লেয়ার চেইন কোয়ার্টজ ঘড়ি সেই লুকটা দেয় একটি মাত্র পিসে। স্ট্র্যাপে আছে গোল্ড-টোন চিকন চেইনের তিনটি সারি, যা পাশাপাশি চলে কেসের কাছে এসে মিলেছে, দেখে মনে হয় কব্জিতে তিনটি নাজুক ব্রেসলেট পরা আছে। মাঝখানে পালিশ করা রিমের ছোট সেমি-রাউন্ড ডায়াল সময় দেখায়। কোয়ার্টজ ঘড়ি বলে দম দেওয়ার ঝামেলা ছাড়াই প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য টাইমকিপিং পাওয়া যায়।
কালেকশনে ডায়ালের রংয়ের বেশ প্রাণবন্ত সব অপশন আছে: দুষ্টু লেপার্ড প্রিন্ট, পরিষ্কার সাদা, নরম গোলাপি, গাঢ় সবুজ, স্লিক কালো আর গাঢ় বারগান্ডি লাল। ছবিতে সেগুলো স্ট্যান্ডে সারি করে এবং এক এক করে দেখানো হয়েছে, তাই তুলনা করা সহজ।
ছবিতে যে ডিজাইন ডিটেইল দেখা যায়
- তিন লেয়ারের চেইন স্ট্র্যাপ। বক্স-স্টাইল চেইনের তিনটি সরু সারি পাশাপাশি বসানো। লিঙ্কগুলো চৌকো ও টেক্সচারওয়ালা, আলো ধরে ঝিলিক দেয়, আর কব্জি বাঁকালে সারিগুলো একটু একটু সরে যায়।
- সেমি-রাউন্ড ডায়াল। মুখটা গোল ও সামান্য ডিম্বাকার ধাঁচের, পাতলা গোল্ড-টোন বর্ডারসহ। ছোট ও কম্প্যাক্ট, কব্জিতে পরিপাটি বসে।
- কোয়ার্টজ মুভমেন্ট। ডায়ালে Quartz লেখা আছে, চিকন লেডিস ঘড়িতে যা সচরাচর দেখা যায়।
- চিকন কাঁটা ও মার্কার। গোল্ড-টোন কাঁটা আর ছোট বার মার্কারের কারণে ডায়াল পড়া সহজ। কিছু ডায়ালে ছোট রোমান-স্টাইলের সংখ্যাও আছে।
- গোল্ড-টোন ফিনিশ। কেস আর চেইন একই উষ্ণ শেডের।
- চ্যাপ্টা লিঙ্কের শেষ প্রান্ত। তিন চেইন যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানে স্ট্র্যাপ চ্যাপ্টা, H-আকৃতির লিঙ্ক অংশে গিয়ে কব্জি ঘিরে আটকায়, ছবিতে যেমন দেখা যায়।
আপনার রং বেছে নিন
- লেপার্ড প্রিন্ট। চিতাবাঘের ছোপের মতো প্রিন্টের মজার ডায়াল। সাদামাটা পোশাকে রং আনে আর বাকি রংয়ের মধ্যে আলাদা চোখে পড়ে।
- সাদা। সবচেয়ে পরিষ্কার ও সহজে পড়ার মতো ডায়াল। ফর্মাল পোশাক, স্কুল ইউনিফর্ম আর হালকা রঙের কাপড়ের সাথে মানায়।
- গোলাপি। নরম গোলাপি ডায়াল, যা সোনালী রঙে কোমল, মেয়েলি আভা আনে। গিফট হিসেবেও সুন্দর।
- সবুজ। গাঢ় সবুজ মুখ, দেখতে জমকালো আর একটু নাটকীয়। ক্রিম, সাদা ও কালোর সাথে ভালো যায়।
- কালো। সোনালী রঙের পাশে স্মার্ট ও আধুনিক লাগে এমন স্লিক কালো ডায়াল, কনট্রাস্ট সবচেয়ে জোরালো।
- বারগান্ডি লাল। গাঢ় লাল ডায়াল, উষ্ণ ও জমকালো। সন্ধ্যার পোশাক আর শরতের রংয়ের সাথে সুন্দর মানায়।
দুটি ছবিতে ঘড়িগুলো এক সারিতে দেখানো হয়েছে। সেই সারিতে একটি ফ্যাকাশে ক্রিম ডায়ালও আছে, যা ছয়টি রং অপশনের মধ্যে নেই। তাই এই পেজের অপশন থেকেই রং বেছে নিন, কারণ কোন রং পাওয়া যাবে তা বদলাতে পারে।
কীভাবে পরবেন
- একমাত্র ব্রেসলেট হিসেবে। তিন সারি চেইন আগে থেকেই স্ট্যাক করা লুক দেয়, তাই ওই হাতে আর কিছু পরার দরকার নেই।
- ক্যাজুয়াল পোশাকে। জিন্স আর সাদামাটা টপের সাথে পরলে সাজে হালকা পরিপাটি ভাব আসে।
- ফর্মাল পোশাকে। সাদা, কালো আর বারগান্ডি লাল অফিস বা অনুষ্ঠানের শার্ট, ব্লেজার ও কুর্তির সাথে ভালো যায়।
- দেশি পোশাকে। গোল্ড-টোন শাড়ি ও সালোয়ার কামিজের সাথে স্বাভাবিকভাবেই মানায়, বিশেষ করে সবুজ বা বারগান্ডি লালে।
- গিফট হিসেবে। স্ট্যাক করা ব্রেসলেটের লুক আর রংয়ের বাছাই মিলিয়ে জন্মদিন, অ্যানিভার্সারি ও উৎসবে এটি আকর্ষণীয় উপহার।
ফিট, সাইজ ও আরাম
একাধিক সারির চেইন স্ট্র্যাপ নমনীয়, তাই কব্জির সাথে লেগে থাকে আর সহজে নড়ে। তিন সারি ওজন ভাগ করে নেয় বলে ঘড়ি স্থির থাকে, আর চেইনের গা মসৃণ, শক্ত নয়। ছবিতে ঘড়িটি স্ট্যান্ডে এবং হাতে ধরে দেখানো হয়েছে। ডায়াল ছোট, চিকন কব্জিতে মানায়, আর তিন সারি ত্বকে একটু উপস্থিতি যোগ করে। স্ট্র্যাপের সঠিক দৈর্ঘ্য, তিন সারির প্রস্থ, ক্ল্যাস্পের ধরন আর দৈর্ঘ্য অ্যাডজাস্ট করা যায় কি না জানতে এই পেজের প্রোডাক্ট ডিটেইল দেখে নিন এবং নিজের কব্জির মাপের সাথে মিলিয়ে নিন।
এমনভাবে পরুন যাতে চেইনগুলো সমান হয়ে শুয়ে থাকে। বেশি টাইট হলে সারিগুলো জড়ো হয়ে যেতে পারে, আর বেশি ঢিলা হলে ঘড়ি কব্জি বেয়ে নেমে আসতে পারে।
যত্ন ও সুন্দর রাখার উপায়
- ঘড়ি শুকনো রাখুন। গোসল, সাঁতার, বাসন ধোয়া বা ব্যায়ামের আগে খুলে ফেলুন।
- পারফিউম, লোশন ও হেয়ার স্প্রে লাগিয়ে শুকিয়ে নিন, তারপর ঘড়ি পরুন।
- পরার পর নরম শুকনো কাপড়ে ডায়ালের কাচ আর চেইন মুছে নিন।
- খসখসে কাপড়ে চেইনের লিঙ্ক আটকে যেতে পারে, তাই সোয়েটার আর লেসের সাথে সাবধান থাকুন।
- অন্য গয়নায় আঁচড় লাগতে পারে, তাই ঘড়িটি সমান করে পাউচ বা বক্সে আলাদা রাখুন।
- ব্যাটারির কথা মাথায় রাখুন। যেকোনো কোয়ার্টজ ঘড়ির মতো একদিন নতুন ব্যাটারি লাগবে, যা ঘড়ির মিস্ত্রি সাধারণত লাগিয়ে দিতে পারেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
এটা কি কোয়ার্টজ ঘড়ি? হ্যাঁ, এটি কোয়ার্টজ ঘড়ি, তাই দম দেওয়ার দরকার নেই।
স্ট্র্যাপে কয়টি চেইন আছে? চিকন চেইনের তিনটি সারি, কেসের কাছে জোড়া লাগানো।
কোন কোন রং বেছে নিতে পারব? লেপার্ড প্রিন্ট, সাদা, গোলাপি, সবুজ, কালো ও বারগান্ডি লাল।
চিকন কব্জিতে কি মানাবে? ডায়াল ছোট আর চেইন চিকন, তাই অনেক মাপের কব্জিতেই মানায়। স্ট্র্যাপের দৈর্ঘ্য প্রোডাক্ট ডিটেইলে দেখে নিন।
সাইজ ও ম্যাটেরিয়ালের তথ্য কোথায় পাব? অর্ডারের আগে এই পেজের প্রোডাক্ট ডিটেইল দেখে নিন।
আপনার জন্য সঠিক ডায়াল বাছাই
যে ঘড়ি সবকিছুর সাথে যাবে, তা চাইলে সাদা ও কালো সবচেয়ে সহজ পছন্দ। সাদা নরম ও হালকা, কালো আরও ধারালো ও ফর্মাল। নিজের ব্যক্তিত্ব দেখাতে চাইলে লেপার্ড প্রিন্ট সবচেয়ে আলাদা, আর সবুজ ও বারগান্ডি লালে পাবেন আরও মার্জিত একটি স্টেটমেন্ট। গোলাপি সবচেয়ে মিষ্টি, নরম রং যাঁর পছন্দ তাঁর জন্য ভালো।
স্ট্র্যাপ আগে থেকেই টেক্সচারওয়ালা ও গোল্ড-টোন, তাই নিজের রুচি দেখানোর জায়গা ডায়ালই। যে রং সবচেয়ে বেশি পরেন সেটা ভাবুন, তারপর এমন ডায়াল নিন যা হয় মিশে যাবে, নয়তো স্পষ্ট একটা অ্যাকসেন্ট দেবে।
শেষ কথা
সেমি-রাউন্ড থ্রি-লেয়ার চেইন কোয়ার্টজ ঘড়ি দেয় স্ট্যাক করা ব্রেসলেটের লুক, সাথে কাজের ঘড়ির সুবিধা। তিন সারির গোল্ড-টোন স্ট্র্যাপ নাজুক, ছোট সেমি-রাউন্ড ডায়াল ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক, আর ছয়টি ডায়াল রংয়ে শান্ত বা দুষ্টু, যেটা খুশি বেছে নেওয়া যায়। যাঁরা এমন ঘড়ি চান যা গয়নার মতো লাগে, তাঁদের জন্য এটি পরিপাটি ও পরার মতো একটি পছন্দ।