এক নজরে
কিছু কানের দুল চুপচাপ থাকে, এগুলো তেমন নয়। কপার কাশ্মীরি মাল্টি-চেইন ঘুঙুর ট্যাসেল কানের দুল লম্বা, আলো ধরে আর নড়াচড়ায় ভরা। প্রতিটি দুলে তিনটি চেইন, আর সোনালি রঙের ঘুঙুর-স্টাইলের ছোট ছোট পুঁতি, মাথা ঘোরালে আলতো করে রিনঝিন করে। এগুলো কপারের তৈরি, ফিনিশ সোনালি রঙের, আর স্তরে স্তরে সাজানো যে অলংকারি স্টাইলকে অনেকে কাশ্মীরি বলেন, তা থেকে অনুপ্রাণিত।
কানের দুল তিনটি স্টাড রঙে পাওয়া যায়, সবুজ, সাদা আর লাল। গড়ন থেকে ট্যাসেলের লম্বা পর্যন্ত বাকি সবকিছু একই, তাই শুধু রং আর মেজাজ দেখে বেছে নিতে পারেন।
ছবিতে যে ডিজাইনের বিবরণ দেখা যায়
পণ্যের ছবিতে প্রতিটি জোড়া হাতে ধরা, তাই মাপজোখ সহজে বোঝা যায়।
- গোল স্টাড। কানের লতিতে বসে বোতামের মতো গোল একটি স্টাড। সোনালি রঙের রিমে বসানো পরিষ্কার পাথরের মতো মাঝখান, তার চারপাশে বেছে নেওয়া রঙের একটি বলয়। এই অংশটিই কানের ভেতর দিয়ে যায়।
- নৌকার আকৃতির বার। স্টাডের নিচে সরু, সূচালো ডিম্বাকৃতির একটি বার, উপরিভাগ হালকা টেক্সচারওয়ালা, দেখতে অনেকটা পাতা বা নৌকার মতো। চেইনগুলো এখানেই লাগানো, আর ট্যাসেলের মাথায় এটি চওড়া ভাব আনে।
- তিনটি ঝোলানো চেইন। বার থেকে তিনটি সরু চেইন পাশাপাশি নেমেছে। একটির বদলে তিনটি থাকায় দুলে ভরা, স্তরে স্তরে লুক আসে।
- ঘুঙুর-স্টাইলের পুঁতি। প্রতিটি চেইন বরাবর আর প্রান্তে সোনালি রঙের ছোট গোল পুঁতি গুচ্ছ করে বসানো, তার মাঝে কয়েকটি ছোট সাদা মুক্তার মতো পুঁতি। এগুলোই দুলকে ঝিলিক আর দোল দেয়।
- লম্বা ট্যাসেল। ছবিতে চেইনগুলো বারের অনেক নিচে ঝোলে, স্টাড আর বার মিলিয়ে যত উঁচু তার কয়েক গুণ, যা স্টেটমেন্ট কানের দুলের চিরায়ত লম্বা।
- সোনালি রঙের ফিনিশ। বার, চেইন আর পুঁতি সব একই উষ্ণ সোনালি রঙের, তাই একমাত্র কনট্রাস্ট স্টাডে।
আপনার রং বেছে নিন
সবুজ। পরিষ্কার মাঝখানের চারপাশে গাঢ় সবুজ বলয়। সবুজ আর সোনালি জমকালো, ঐতিহ্যবাহী জুটি, আর ক্রিম, সাদা, লাল, মেরুন ও নেভি পোশাকের সাথে মানায়।
সাদা। পরিষ্কার, হালকা পাথরের মতো স্টাড, সোনালির পাশে রুপালি সাদা দেখায়। এটিই সবচেয়ে সব-পোশাকের জন্য চলে। প্রায় যেকোনো রঙের সাথে যায়, আর নজর থাকে সোনালি ট্যাসেলের ওপরই।
লাল। পরিষ্কার মাঝখানের চারপাশে গাঢ় লাল বলয়। উষ্ণ আর উৎসবের মতো, আর সাদা, ক্রিম, সবুজ, নীল ও কালো পোশাকের সাথে চোখে পড়ার মতো লাগে।
এই কানের দুল অনেক রকম পোশাকের সাথে পরলে সাদা সবচেয়ে নিরাপদ। কোনো একটি বিশেষ শাড়ি বা কামিজের সাথে মেলাতে চাইলে তার পাড় বা এমব্রয়ডারির রংটি বেছে নিন।
কীভাবে পরবেন বা স্টাইল করবেন
- শাড়ির সাথে। লম্বা ট্যাসেল কানের দুল শাড়ির ব্লাউজের গলার সাথে দারুণ লাগে, বিশেষ করে চুল খোঁপা বা বেণী করে রাখলে, যাতে দুল দেখা যায়।
- কুর্তা বা সালোয়ার কামিজের সাথে। এগুলোই হোক একমাত্র স্টেটমেন্ট গয়না। নীল, সাদা বা কালো রঙের সাদামাটা, এক রঙের কুর্তা খুব ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড।
- বিয়ে আর উৎসবের দিনে। হলুদ, ঈদ বা পারিবারিক বিয়েতে পরুন। ভারী নেকলেস ছাড়াই সাজার একটি উপায়।
- চোকার বা নেকলেস ছাড়া। পাতলা চোকার চলতে পারে, তবে গলা খালি থাকলে কানের দুল সবচেয়ে ভালো ফোটে।
- চুল। বাঁধা, বেণী করা বা পিন দিয়ে পেছনে আটকানো চুলে কানের দুল পরিষ্কার দেখা যায়। খোলা চুল ট্যাসেল ঢেকে দিতে পারে, আর পুঁতিতে আটকেও যেতে পারে।
মেলানোর একটি সহজ কৌশল: এই মৌসুমে যে পোশাক সবচেয়ে বেশি পরবেন তার মূল রংটি দেখুন, তারপর এমন স্টাড বেছে নিন, যা তাতে থাকা কোনো ছোট ডিটেইলের পুনরাবৃত্তি করে, নয়তো উল্টো রং, যেমন সবুজ কামিজের সাথে লাল। দুটোই ইচ্ছা করে বেছে নেওয়া মনে হয়, আর সোনালি ট্যাসেলই থাকে আকর্ষণের কেন্দ্রে।
ফিট, সাইজ আর আরামের পরামর্শ
লম্বা কানের দুল লতি থেকে ঝোলে, তাই আরাম নির্ভর করে ওজন আর কানে পোস্ট কীভাবে বসে তার ওপর। অর্ডারের আগে লম্বা আর ওজনের তথ্য এই পেজের পণ্যের বিবরণে দেখে নিন। প্রথমবার পরলে অনুষ্ঠানের আগে বাসায় এক ঘণ্টা পরে দেখুন, বসে, হেঁটে আর মাথা ঘুরিয়ে কেমন লাগে।
কানের দুল স্টাড পোস্টে আটকায়, আর সরু চেইন স্বাধীনভাবে নড়ে। আপনার কান স্পর্শকাতর হলে মনে রাখবেন, ধাতুতে প্রতিক্রিয়া একেকজনের একেক রকম, কান জ্বালা করলে খুলে ফেলুন। লতির সাথে আরাম করে বসে এমন ব্যাকিংয়ের সাথে পরুন।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে বা খেলাধুলার সময় খুলে রাখুন। ভুলে গেলে লম্বা চেইন বালিশ, স্কার্ফ বা চিরুনিতে আটকে যেতে পারে।
যত্ন আর সুন্দর রাখার উপায়
- সবার শেষে পরুন। আগে পারফিউম, হেয়ার স্প্রে আর পাউডার লাগান। কেমিক্যালে সোনালি রঙের ফিনিশ ম্লান হতে পারে।
- পরার পর মুছুন। নরম শুকনো কাপড়ে বার, পুঁতি আর স্টাড থেকে ঘাম আর মুখের তেল তুলে ফেলুন।
- শুকনো রাখুন। অনেকক্ষণ পানি, ভাপ আর ঘামের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
- যত্ন করে রাখুন। ছোট বক্সে বা পাউচে চেইন সোজা করে রাখুন, যাতে পুঁতি আর চেইন জট না পাকায়। প্রতিটি জোড়া অন্য গয়না থেকে আলাদা রাখুন।
- ওপরটা ধরুন। পরা-খোলার সময় স্টাড ধরুন, ট্যাসেল টানবেন না।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
কোন কোন রং আছে? সবুজ, সাদা আর লাল। এই পেজেই বেছে নিতে পারবেন।
পুঁতিতে কি আওয়াজ হয়? এগুলো ঘুঙুর-স্টাইলের পুঁতি, তাই নড়লে হালকা, নরম রিনঝিন আওয়াজ হতে পারে।
খুব লম্বা কি? এগুলো লম্বা ট্যাসেল কানের দুল, কানের লতির অনেক নিচে ঝোলে। সঠিক লম্বা এই পেজের পণ্যের বিবরণে দেখুন।
জোড়া হিসেবে বিক্রি হয়? হ্যাঁ, ছবিতে মিলিয়ে একটি জোড়া দেখানো আছে।
রোজ পরা যাবে? অনুষ্ঠানের জন্যই ভালো, কারণ লম্বা চেইন নাজুক।
শেষ কথা
কপার কাশ্মীরি মাল্টি-চেইন ঘুঙুর ট্যাসেল কানের দুল পোশাকে দোল, ঝিলিক আর ঐতিহ্য যোগ করার সহজ উপায়। গোল পাথরের মতো স্টাড, পাতার মতো বার আর পুঁতি বসানো তিনটি চেইন, সবুজ, সাদা বা লাল রঙে, সবই উষ্ণ সোনালি রঙের ফিনিশে। চুল তুলে পরুন, শুকনো রাখুন, যত্ন করে সাজিয়ে রাখুন, তাহলে অনেক দিন উৎসবের ছোঁয়া দেবে।