যেখানে ফুল আর চেইন মিলেছে
প্রথম ছবিটা খুললেই একটা জিনিস চোখে পড়ে: হাতটা সাজানো দেখায়, ঢাকা নয়। এটাই এই দুই স্ট্র্যাপের কপার হাতফুলের বড় গুণ। কব্জি থেকে আঙুল পর্যন্ত দুটি সরু সোনালি চেইন টানা, মাঝখানে অনেকটা খালি ত্বক, আর চেইনের ওপর ছোট ছোট নকশা বসে আছে, যেন সরু লতায় বাগানের ফুল।
ডিজাইনের মূলে আছে সাধারণ একটা চ্যাপ্টা ফুল, যার পাপড়িগুলো তারার মতো ছুঁচালো। ফুলটা পাবেন কব্জিতে, যেখানে চেইন লেগেছে, আবার আঙুলের লুপের ওপরেও। এর মাঝে চেইন থেকে সাদা পুঁতির ছোট ছোট গুচ্ছ ঝুলছে, প্রতিটা গুচ্ছ একটা ছোট সোনালি ফিটিংয়ে বসানো।
খুঁটিনাটি
- দুটি চেইন। হাতের পিঠ বরাবর পাশাপাশি চলে, তারপর আঙুলের দিকে এসে একটু আলাদা হয়ে যায়। ছবিতে দেখবেন হাতের ওপর দুটি লম্বা, নরম রেখা হয়ে শুয়ে আছে।
- চ্যাপ্টা ফুলের মাথা। ফুলগুলো মসৃণ আর চ্যাপ্টা, পাপড়ি ছুঁচালো। দেখতে কেটে বসানো ফুলের মতো, থ্রিডি চার্মের মতো নয়, তাই হালকা লাগে।
- পার্ল-লুক পুঁতির গুচ্ছ। ছোট সাদা পুঁতিগুলো চকচকে আর গোল। প্রতিটি চেইনে কয়েকটা পুঁতি নিয়ে ছোট গুচ্ছ। দেখতে মুক্তার মতো বলেই এখানে পার্ল-লুক বলা হয়েছে; পুঁতির আসল উপাদান কী, সেটা প্রোডাক্ট পেজে দেখে নেওয়া ভালো।
- চিকন কব্জির ব্যান্ড। কব্জির অংশটা পাতলা, খোলা একটা সোনালি ব্যান্ড। প্রতিটি চেইন যেখানে শুরু, সেখানে একটা করে ফুল, তাই চেইনগুলো পরিপাটি করে লাগানো।
- আঙুলের লুপ। প্রতিটি চেইনের শেষে একটা লুপ, তার ওপর একটা ফুল। ছবিতে পাশাপাশি দুই আঙুলে দুটি লুপ বসে আছে।
এক কোলাজে চার রকম মেজাজ
প্রথম ছবিটা চার ভাগের কোলাজ, প্রতিটায় আলাদা লুকের নাম লেখা। ভালো করে দেখার মতো, কারণ এতে বোঝা যায় জিনিসটা কত রকম সাজে মানায়। ঐতিহ্যবাহী লুকে ক্রিম রঙের এমব্রয়ডারি করা পোশাকের পাশে। সন্ধ্যার লুকে কালো পোশাকের সাথে, সোনালি রংটা তখন দারুণ ফুটে ওঠে। ক্যাজুয়াল লুকে সাদামাটা সাদা টপের সাথে, আর ফেস্টিভ লুকে গাঢ় লাল পোশাকের সাথে। একই দুটি চেইন, শুধু পেছনের পোশাক বদলালে কখনো পরিপাটি, কখনো সাহসী, কখনো ঝরঝরে, কখনো উৎসবের মেজাজ।
পোশাকের সাথে মিলিয়ে নেওয়া
- সাধারণ দিনে। সাদা কুর্তি বা সাদামাটা সুতি শার্টের সাথে পুঁতি আর ফুল একটু নরম ছোঁয়া দেয়। একই হাতে বালা পরবেন না।
- পার্টিতে। কালো বা নেভি ব্লু পোশাকে সোনালি রং সামনে চলে আসে। সাথে ছোট স্টাড দুল পরুন, যাতে নজর হাতেই থাকে।
- ঈদ আর পূজায়। লাল, মেরুন আর সবুজ, সব রঙের কাপড়েই মানায়। একই সোনালি টোনের একটা চিকন নেকলেস পরতে পারেন।
- বিয়েতে। অতিথির সাজেও চলে, কনের সাথের মেয়েদের সাজেও। কনে চাইলে নিজের ভারী গয়নার মাঝে একটু হালকা ভাব আনতে এটা পাশাপাশি পরতে পারেন।
সাইজ আর হাতে কেমন বসে
চেইন দুটির দৈর্ঘ্য ঠিক করা, তাই ফিট নির্ভর করে কব্জি থেকে লুপ বসার আঙুল পর্যন্ত দূরত্বের ওপর। হাতের মাপ একেক জনের একেক রকম, তাই নরম ফিতা দিয়ে মেপে এই পেজের ডিটেইলসের সাথে মিলিয়ে নিন। কব্জির ব্যান্ড খোলা, তাই আস্তে করে একটু অ্যাডজাস্ট করা যায়, তবে ধীরে করবেন যাতে ধাতু বেঁকে না যায়। চেইন পাতলা বলে ত্বকে প্রায় ওজনই টের পাওয়া যায় না। আঙুল ভাঁজ করলে হাতের পিঠের শিরার ওপর একটু লাগতে পারে, যেকোনো হ্যান্ড চেইনেই এটা স্বাভাবিক।
টাইপ করার সময়, ব্যাগ ধরলে বা পকেটে হাত দিলে চেইন একটু সরে যায়। দুই আঙুলের মাঝের চেইন সাধারণ কাজে বাধা দেয় না, তবে রান্না আর পরিষ্কারের কাজ এটা ছাড়াই করা ভালো।
নখ, মেকআপ আর চুলের সাথে মেলানো
হাতের গয়না চোখ টেনে আনে আঙুলের দিকে, তাই নখের দিকে একটু নজর দিলে অনেক ফল পাবেন। হালকা নুড, মিল্কি পিঙ্ক আর হালকা আইভরি নেইলপলিশ সাদা পুঁতি আর সোনালি ফুলের পাশে শান্ত লাগে। গাঢ় ওয়াইন বা মেরুন রঙে সোনালি রংটা আরও জমকালো দেখায়, কোলাজের লাল ফেস্টিভ লুকে যেমনটা মানিয়েছে। ছবির মতো চুল খোলা আর লম্বা রাখলে হাত প্রায়ই মুখের কাছে ওঠে, তাই দুল ছোট আর পরিপাটি রাখুন, নইলে ভিড় লাগবে। খোঁপা করলে দুল একটু বড় নিতে পারেন, কারণ তখন গলা খোলা আর হাতের গয়না নিচে থাকে।
অন্য হাতটার কথাও ভাবুন। সেখানে চিকন একটা ঘড়ি বা একটা পাতলা বালা থাকলে ব্যালান্স ঠিক থাকে, আরেকটা বড় গয়না পরলে দুটো পাল্লা দেবে।
বেশিদিন ভালো রাখতে
সোনালি ফিনিশের কপারের গয়না আলতো হাতে ব্যবহার করলে ভালো থাকে। হাত ধোয়ার আগে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা লোশন লাগানোর আগে আর ঘুমানোর আগে হাতফুলটা খুলে রাখুন। পুঁতি টানলে আলগা হয়ে যেতে পারে, তাই খোলার সময় চেইন না টেনে কব্জির ব্যান্ড ধরে খুলুন। শুকনো নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন, বক্সে সোজা করে শুইয়ে রাখুন বা হুকে ঝুলিয়ে দিন, চেইন সোজা থাকলে জট পাকাবে না। স্ক্র্যাচ এড়াতে অন্য গয়না থেকে আলাদা রাখুন।
দ্রুত জবাব
কয়টি চেইন আছে? দুটি চেইন, ফুলের মাথা আর সাদা পুঁতির গুচ্ছসহ।
পুঁতিগুলো কি আসল মুক্তা? এগুলো পার্ল-লুক পুঁতি। ঠিক কোন উপাদান, তা প্রোডাক্ট ডিটেইলসে দেখে নিন।
দুই হাতেই পরা যায়? ডিজাইনটা দেখতে দুই দিকেই সমান, তাই দুই হাতেই পরা যেতে পারে। তবে ছবিতে একবারে এক হাতেই দেখানো হয়েছে, যেটায় বেশি আরাম পান সেটাতেই পরুন।
সাথে কি আংটি আছে? প্রতিটি চেইনের শেষে আঙুলের লুপ আছে, ছবিতে যেমন দেখা যাচ্ছে।
গিফট দেওয়ার জন্য কেমন? হালকা, ফুলের মতো লুকের জন্য বোন, বন্ধু বা হবু কনেকে দেওয়ার জন্য সুন্দর গিফট।
শেষ কথা
দুটি চেইন, চ্যাপ্টা সোনালি ফুল আর নরম সাদা পুঁতি: সাদামাটা আর সাজের সুন্দর একটা মিশেল এই হাতফুল। হাত খোলা থেকেও সাজানো দেখায়, আর ঐতিহ্যবাহী, ক্যাজুয়াল, সন্ধ্যা বা ফেস্টিভ, সব ধরনের পোশাকেই সহজে মানায়। হালকা আর খোলা ধাঁচ পছন্দ হলে আপনার কালেকশনে রাখার মতো।