পরিচিতি
মিনা মানে এনামেলের কাজের ঐতিহ্যবাহী নাম, গয়নায় এর অর্থ ধাতুর ভেতরে কাচের ফোঁটার মতো বসে থাকা রং। এই অ্যাডজাস্টেবল মিনা এনামেল ওপেন আংটি সেই ভাবনাটাকে এনেছে ছোট, আধুনিক একটা আংটিতে, যা যে কেউ পরতে পারে। ব্যান্ড চকচকে এনামেলে মোড়া, সামনে ছোট সোনালি রঙের স্টাড, আর পেছনের খোলা অংশের দুই পাশে সোনালি রঙের দুটি মাথা বাঁকানো। রং ছয়টি হাসিখুশি, তাই নিজের স্টাইলের সাথে মেলে একটা বেছে নিতে পারেন, কিংবা কয়েকটা সংগ্রহ করতে পারেন।
আংটি খোলা আর অ্যাডজাস্টেবল হওয়ায় গিফটের জন্য সুবিধার, আর যাঁদের আঙুলের সাইজ আবহাওয়ার সাথে বদলায় তাঁদের জন্যও। এটা হালকা, আর উজ্জ্বল রংটা জিন্স আর টি-শার্টের সাথে যেমন মজার, ফেস্টিভ পোশাকেও তেমনি সহজ অ্যাক্সেসরি।
ছবিতে যে ডিজাইন ডিটেইলস দেখা যায়
- চকচকে এনামেল ব্যান্ড। আংটি এক রঙের মসৃণ, চকচকে এনামেলে মোড়া। সারফেস সমান দেখায়, আর প্রতিটি ছবিতে রংটা পরিষ্কার ফোটে।
- ছোট সোনালি রঙের স্টাড। ব্যান্ডের সামনে সমান দূরত্বে কয়েকটা ছোট, তারা বা কাটা আকারের সোনালি রঙের স্টাড বসানো। এগুলো একটু ঝিলিক যোগ করে আর সাদামাটা এনামেলকে ভেঙে দেয়।
- খোলা পেছন। আংটির পেছন খোলা, তাই দুই মাথা মেলে না। আস্তে চাপ দিয়ে আংটিটা একটু চওড়া বা সরু করা যায়।
- সোনালি রঙের মাথা। ব্যান্ডের দুই মাথা সাদামাটা সোনালি রঙের, তাই এনামেলকে পরিপাটি ফ্রেম করে আর আঙুলে আরাম করে বসে।
- চিকন প্রোফাইল। ব্যান্ড সরু, তাই অন্য আংটির সাথে স্ট্যাক করা বা চিকন ব্যান্ডের পাশে পরা সহজ।
নিজের রং বেছে নিন
ছবির ছয়টি রঙের প্রত্যেকটার আলাদা মেজাজ আছে।
- টারকোয়েজ। জোরালো সবুজাভ নীল, তাজা আর গরমের মতো, সাদা আর সোনালির সাথে সুন্দর মানায়।
- হট পিংক। গাঢ়, উজ্জ্বল গোলাপি, যাঁরা হাতে স্টেটমেন্ট রং ভালোবাসেন তাঁদের জন্য।
- রয়্যাল ব্লু। গভীর, গাঢ় নীল, দেখতে আভিজাত্যে ভরা, সাদা, কালো আর ক্রিম পোশাকের সাথে যায়।
- অ্যাকোয়া। আরও নরম, মুক্তার মতো হালকা টারকোয়েজ, শান্ত আর কোমল, প্যাস্টেল লুকের জন্য ভালো।
- সাদা। পরিচ্ছন্ন আর সাদামাটা, যেকোনো পোশাকের সাথে মেলানো সহজ, আর মুক্তার সাথে ভালো জুটি।
- লাইট পিংক। নরম বেবি পিংক, মিষ্টি আর শান্ত, রোজ পরার জন্য ভালো বাছাই।
কোনটা নেবেন ঠিক করতে না পারলে মনে রাখুন, আংটি ছোট, তাই দুটি বা তিনটি রং এক হাতে সুন্দর মানিয়ে যায়।
কীভাবে পরবেন
- একা। এক আঙুলে একটা উজ্জ্বল আংটি রং যোগ করার সহজ উপায়।
- স্ট্যাক করে। দুটি বা তিনটি রং পাশাপাশি বা আলাদা আঙুলে পরুন, চঞ্চল লুকের জন্য।
- সাদামাটা ব্যান্ডের সাথে। এনামেল আংটির পাশে একটা চিকন সোনালি রঙের ব্যান্ড পরলে ভারসাম্য থাকে।
- পোশাকের সাথে মিলিয়ে। পোশাকের কোনো খুঁটিনাটি, যেমন স্কার্ফ, ব্যাগ বা নেইল কালারের সাথে মেলে এমন রং বাছুন।
- ছোট আঙুলে। কনিষ্ঠায় বা মিডি রিং হিসেবেও দারুণ মানায়, শুধু আঁট হয়ে বসছে কি না দেখে নিন।
ফিট, সাইজ ও আরাম
পেছন খোলা, তাই আংটি অ্যাডজাস্ট করা যায়, এটাই এর বড় সুবিধা। ফিট বদলাতে মাথা দুটো আস্তে চেপে কাছে আনুন বা একটু সরিয়ে দিন, আর প্রতিবার বদলের পর আংটিটা পরে দেখুন। বারবার বাঁকাবেন না, কারণ বেশি নাড়াচাড়ায় ধাতু দুর্বল হতে পারে আর এনামেলে দাগ পড়তে পারে। অর্ডারের আগে সাইজের পরিসর এই পেজের প্রোডাক্ট ডিটেইলসে দেখে নিন। এমন ফিট চান, যা জায়গায় থাকে কিন্তু আঙুল চেপে ধরে না, আর মনে রাখবেন গরমের দিনে আঙুল সাধারণত একটু ফুলে যায়।
রং মেলানো ও সংগ্রহ করা
প্রতিটি রং আলাদা অপশন, তাই একটা দিয়ে শুরু করে পরে আরও যোগ করা সহজ। জনপ্রিয় একটা উপায় হলো পাশের আঙুলে দুটি কনট্রাস্ট রং পরা, যেমন রয়্যাল ব্লুর সাথে সাদা, বা হট পিংকের সাথে টারকোয়েজ। শান্ত লুকের জন্য একই পরিবারের দুটি টোন বাছুন, যেমন অ্যাকোয়া আর টারকোয়েজ, অথবা লাইট পিংক আর হট পিংক। সোনালি রঙের গয়না বেশি পরলে এই আংটির সোনালি স্টাড আর মাথা স্বাভাবিকভাবেই তার সাথে মিলে যায়, তাই আংটিটা বেমানান লাগে না।
গিফটের জন্য যাঁকে দিচ্ছেন তাঁর প্রিয় রঙের একটা আংটি নিরাপদ বাছাই, আর আংটি অ্যাডজাস্টেবল বলে আরামের ফিটের জন্য তাঁর আঙুলের ঠিক সাইজ জানতে হয় না।
যত্ন নিন, সুন্দর রাখুন
- এনামেল সাবধানে রাখুন। শক্ত জায়গায় ঠুকবেন না, কারণ এনামেল ছিলে যেতে পারে।
- শুকনো রাখুন। অনেকক্ষণ হাত ধোয়া, গোসল, সাঁতার আর ব্যায়ামের আগে খুলে রাখুন।
- সবার শেষে পরুন। লোশন, পারফিউম আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার আগে লাগান, কারণ কেমিক্যালে ফিনিশের ক্ষতি হতে পারে।
- আলতো করে মুছুন। পরার পর নরম, পরিষ্কার, শুকনো কাপড় ব্যবহার করুন।
- আলাদা রাখুন। ছোট বাক্স বা পাউচে অন্য আংটি থেকে দূরে রাখুন, যেগুলো আঁচড় কাটতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
কোন কোন রং পাওয়া যায়? টারকোয়েজ, হট পিংক, রয়্যাল ব্লু, অ্যাকোয়া, সাদা আর লাইট পিংক। এই পেজ থেকেই রং বেছে নিন।
আংটি কি অ্যাডজাস্টেবল? হ্যাঁ। পেছন খোলা, তাই একটু অ্যাডজাস্ট করা যায়।
মিনা কী? এটা এনামেল রঙের ঐতিহ্যবাহী নাম, মানে এই আংটির চকচকে রঙিন আস্তরণ।
রোজ পরা যাবে? চিকন আর হালকা, তাই এনামেল সাবধানে রাখলে আর শুকনো রাখলে নিয়মিত পরা যায়।
স্টাডে কি পাথর আছে? ছবিতে ছোট সোনালি রঙের তারার মতো স্টাড দেখা যায়, আর কিছু রঙে ছোট স্বচ্ছ ক্রিস্টাল-লুক সেন্টারও দেখা যায়। আরও তথ্যের জন্য এই পেজের প্রোডাক্ট ডিটেইলস দেখে নিন।
সাইজের পরিসর কোথায় পাব? এই পেজের প্রোডাক্ট ডিটেইলস দেখে নিন।
শেষ কথা
অ্যাডজাস্টেবল মিনা এনামেল ওপেন আংটি ছোট, উজ্জ্বল, সহজ একটা পিস: চকচকে এনামেল ব্যান্ড, ছোট সোনালি রঙের স্টাড আর আঙুলের সাথে মিলিয়ে নেওয়া যায় এমন খোলা পেছন। ছয় রঙে নিজের স্টাইলের একটা বেছে নেওয়া সহজ, আর কয়েকটা স্ট্যাক করে হাতে চঞ্চল ভাব আনাও যায়। এটা হালকা, অনেক পোশাকের সাথে মানায় আর গিফট হিসেবেও ভালো। শুকনো রাখুন আর এনামেলের যত্ন নিন, তাহলে এটা আপনার হাতে রং যোগ করতেই থাকবে।